জার্মানির রাজধানী বার্লিনের মেয়র হওয়ার পথে এগোচ্ছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক এলিফ এরাল্প। ২০ সেপ্টেম্বরের রাজ্য নির্বাচনে তাঁর দল ডি লিংকে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পর জোট সরকার গঠনের আলোচনায় দলটি এগিয়ে রয়েছে। জোট গঠনে প্রয়োজনীয় সমঝোতা হলে ৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী বার্লিনের প্রথম ডি লিংকে মেয়র এবং তুর্কি বংশোদ্ভূত প্রথম শাসক মেয়র হতে পারেন।
নির্বাচনে ডি লিংকে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। এছাড়া অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ১৬ দশমিক ৩, গ্রিন পার্টি ১৪ দশমিক ৩ এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ডি লিংকে পেয়েছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনের পর ডি লিংকে, গ্রিন পার্টি ও এসপিডির মধ্যে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডি লিংকের দলীয় সম্মেলনে গ্রিন পার্টি ও এসপিডির সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার পক্ষে প্রতিনিধিরা ভোট দিয়েছেন। এসপিডিও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তিন দলের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো জোট হয়নি।
বার্লিনের নির্বাচনে ডি লিংকের সাফল্যের পেছনে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এরাল্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল বড় বেসরকারি আবাসন কোম্পানির মালিকানাধীন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার আবাসিক ইউনিটকে জননিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ। ভাড়া কমানো ও আবাসনকে আরও সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতির কারণে তাঁর প্রচারণার সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রচারণার তুলনা করা হয়েছে।
তুর্কি বংশোদ্ভূত ৪৫ বছর বয়সী এরাল্প পেশায় আইনজীবী। তিনি মিউনিখে তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি বার্লিনের রাজ্য পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে ডি লিংকের প্রধান প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রচার চালান।
এরাল্পের উত্থানকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তুলনা করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দুজনের প্রচারণাতেই জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট ও ভাড়া কমানোর বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এরাল্পের মেয়র হওয়া এখনো নিশ্চিত নয়। বার্লিনের রাজ্য পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডি লিংকেকে জোটসঙ্গী প্রয়োজন। সম্ভাব্য জোটের আলোচনায় দলটির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিতর্কও উঠে এসেছে। গ্রিন পার্টি ও এসপিডির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এরাল্প অবশ্য বলেছেন, বার্লিনে ইহুদি, মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর অগ্রাধিকার। সহিংসতা ও সন্ত্রাসের প্রশংসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
জোট আলোচনায় সমঝোতা হলে এরাল্পের নেতৃত্বে বার্লিনে ডি লিংকের সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি শুধু দলটির প্রথম শাসক মেয়রই হবেন না, অভিবাসী পরিবারের পটভূমি থেকে আসা একজন রাজনীতিক হিসেবে জার্মানির রাজধানীর নেতৃত্বে নতুন নজিরও তৈরি করবেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক